বাংলাদেশে TOPIK (কোরিয়ান ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা) নেয় ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাস। পরীক্ষা হয় কাগজে (PBT), সাধারণত বছরে দুবার — এপ্রিল ও অক্টোবরে, আর ২০২৫–২০২৬ সালে কেন্দ্র ছিল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)। আবেদন করতে হয় দূতাবাসের «TOPIK BANGLADESH» পেজে অনলাইনে, তারপর দূতাবাসে গিয়ে নগদ টাকায় ফি দিতে হয়: TOPIK I ৩,৫০০ টাকা, TOPIK II ৪,৫০০ টাকা।
⚠️ ২০২৭ সালে বাংলাদেশে কোন কোন তারিখে পরীক্ষা হবে, তা এখনো ঘোষণা হয়নি (২৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত)। দূতাবাস জানিয়েছে, পরের পরীক্ষার ঘোষণা আসবে জানুয়ারি ২০২৭-এ। নিচে কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের বার্ষিক পরিকল্পনা আর বাংলাদেশে ২০২৫–২০২৬ সালের বাস্তব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে বোঝানো হয়েছে।
কে নেয়, কোথায় যোগাযোগ
- - আয়োজক: দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাস, ঢাকা — ৪ মাদানী এভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা-১২১২
- - আবেদনের পেজ: দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া «TOPIK BANGLADESH» পেজ (নোটিশ, আবেদন লিংক আর নিয়ম এখানে থাকে)
- - ইমেইল: topikbangladesh@gmail.com
- - দূতাবাসের ফোন: +880-2-5881-2088~90 (রবি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা–দুপুর ১২:৩০ ও দুপুর ১:৩০–বিকেল ৫টা)
TOPIK-এর মূল দায়িত্বে আছে কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন NIIED (জাতীয় আন্তর্জাতিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট)। ফলাফল দেখা আর সার্টিফিকেট প্রিন্ট করা যায় topik.go.kr-এ, বিনামূল্যে।
প্রথমেই মনে রাখুন: TOPIK আর EPS-TOPIK আলাদা
দূতাবাস প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে লিখে দেয়: TOPIK-এর সঙ্গে EPS-এর কোনো সম্পর্ক নেই, আর TOPIK-এ বেশি নম্বর পেলেও কোরিয়া যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। কোরিয়ায় কাজের ভিসা (E-9) চাইলে বোয়েসেলের মাধ্যমে EPS-TOPIK দিতে হয় — দেখুন বাংলাদেশে EPS-TOPIK ২০২৬। TOPIK লাগে মূলত কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি, চাকরি আর কিছু ভিসার জন্য।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে TOPIK
| পরীক্ষা | তারিখ | কেন্দ্র | অনলাইন আবেদন | দূতাবাসে ফি জমা | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|---|
| ১০৫তম | ১১ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) | AIUB (সম্ভাব্য) | ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে | ১৬–১৭ জানুয়ারি | topik.go.kr-এ |
| ১০৮তম | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) | AIUB | জুনের শেষ দিকে | জুলাইয়ের শুরুতে | ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ |
২০২৫ সালেও একই ধাঁচ ছিল: ৯৯তম পরীক্ষা ১২ এপ্রিল আর ১০২তম পরীক্ষা ১৮ অক্টোবর ২০২৫ (AIUB)। ১০২তমের জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হয় ২২ জুন, ফি জমা ২৭–২৮ জুন, আর প্রতিটি স্তরে (TOPIK I ও TOPIK II) সর্বোচ্চ ৫০০ জন আবেদন করতে পেরেছিলেন। ৯৯তম পরীক্ষায় আসন এত দ্রুত ভরে যায় যে দূতাবাস «আগে এলে আগে পাবেন» ভিত্তিতে নির্ধারিত দিনের আগেই নিবন্ধন বন্ধ করার সতর্কতা দিয়েছিল।
শিক্ষা: বাংলাদেশে আসন কম, চাহিদা বেশি। ঘোষণা আসার দিন থেকেই প্রস্তুত থাকুন — আবেদন খোলার প্রথম ঘণ্টাগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালে কবে হতে পারে
কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও NIIED ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২০২৭ সালের TOPIK পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিদেশে কাগজের পরীক্ষা হবে ১১১ থেকে ১১৫তম পর্যন্ত (১১০তম শুধু কোরিয়ায়)। বাংলাদেশ সাধারণত এপ্রিল আর অক্টোবরের শনিবার পরীক্ষা নেয়, তাই সম্ভাব্য তারিখ:
| পরীক্ষা | বিশ্বব্যাপী তারিখ (পরিকল্পনা) | বাংলাদেশে সম্ভাব্য দিন | ফলাফল (পরিকল্পনা) |
|---|---|---|---|
| ১১১তম | ১০–১১ এপ্রিল ২০২৭ | ১০ এপ্রিল (শনিবার) — অনুমান | ৩১ মে ২০২৭ |
| ১১৪তম | ১৬–১৭ অক্টোবর ২০২৭ | ১৬ অক্টোবর (শনিবার) — অনুমান | ৯ ডিসেম্বর ২০২৭ |
⚠️ এটি শুধু অনুমান। বাংলাদেশে কোন পরীক্ষা হবে, তা দূতাবাস ঠিক করে। ১১২, ১১৩ বা ১১৫তম পরীক্ষাও বাংলাদেশে হবে কি না, ঘোষণা দেখে নিশ্চিত হোন। কম্পিউটারভিত্তিক TOPIK (IBT) বাংলাদেশে নেওয়ার কোনো ঘোষণা এখনো দূতাবাস দেয়নি।
আবেদনের ধাপ (২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী)
- আগে ছবি তৈরি রাখুন — গত ৩ মাসের মধ্যে তোলা পাসপোর্ট সাইজের (৩×৪ সেমি) রঙিন ছবি, jpg ফাইল, ৫MB-এর কম। ফাইলের নাম হবে আপনার পুরো নাম। টুপি, সানগ্লাস, ইয়ারফোন বা মুখ ঢাকা ছবি চলবে না।
- TOPIK BANGLADESH পেজে অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন। একটি ইমেইল আর একটি ফোন নম্বরে একজনের একটিই আবেদন। একই তথ্যে বারবার আবেদন করলে সবগুলোই বাতিল হয়।
- TOPIK I ও TOPIK II দুটোই দিতে চাইলে আলাদা আলাদা আবেদন করতে হয়।
- জমা দেওয়ার পর মূল তথ্য আর বদলানো যায় না — ভুল তথ্যের দায় আবেদনকারীর।
- আসন পূর্ণ হলে সিস্টেম নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।
- নির্ধারিত দিনে দূতাবাসে গিয়ে নগদ টাকায় ফি দিন, সঙ্গে পাসপোর্ট বা এনআইডি-র একটি ফটোকপি। আবেদনপত্রের প্রিন্ট লাগে না। পরিবার বা বন্ধুর ফিও দিতে পারেন — প্রত্যেকের আইডির কপি লাগবে।
- সময়মতো ফি না দিলে আবেদন কোনো নোটিশ ছাড়াই বাতিল। জমা দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
দূতাবাস অনুরোধ করেছে, ফি দেওয়ার দিন খুব ভোরে গিয়ে লাইন দেবেন না — অনলাইনে আবেদন ঠিকমতো করে থাকলে নির্ধারিত দিনে সময়মতো গেলেই হবে।
ফি
| TOPIK I (স্তর ১–২) | TOPIK II (স্তর ৩–৬) | |
|---|---|---|
| ২০২৫–২০২৬ | ৩,৫০০ টাকা | ৪,৫০০ টাকা |
| ২০২৩ (তুলনার জন্য) | ২,০০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
২০২৭ সালের ফি দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
পরীক্ষার দিন
- - পরিচয়পত্র: শুধু পাসপোর্ট, এনআইডি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স — মূল কপি। জন্ম নিবন্ধন সনদ, আইডির ফটোকপি বা ফোনে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। আইডির তথ্য বা ছবি আবেদনের সঙ্গে না মিললে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।
- - সময়: ১০৮তম পরীক্ষা থেকে সময়সূচি বদলেছে। ১০৮তমে TOPIK I-এর জন্য সকাল ১০টার মধ্যে আর TOPIK II-এর জন্য দুপুর ১টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বলা হয়েছিল — নিজের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সময় দেখে নিন।
- - নিষিদ্ধ: মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে (বেজে উঠলে অসদুপায় ধরা হয়)। ১০৮তম পরীক্ষা থেকে অ্যানালগ ঘড়িও নিষিদ্ধ।
- - OMR কার্ডে দাগ দেওয়ার কলম কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয় — শুধু সেটিই ব্যবহার করতে হবে।
- - কেন্দ্রের সামনে বোর্ডে নিজের কক্ষ আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে নিন।
পরীক্ষার কাঠামো
| পরীক্ষা | অংশ | মোট নম্বর | পাওয়া যায় যে স্তর |
|---|---|---|---|
| TOPIK I | শ্রবণ + পঠন | ২০০ | স্তর ১–২ |
| TOPIK II | শ্রবণ + লিখন + পঠন | ৩০০ | স্তর ৩–৬ |
TOPIK II দিতে আগে TOPIK I পাস করার দরকার নেই। কত নম্বরে কোন স্তর, তা দেখুন TOPIK স্তর ও নম্বর তালিকা-য়। ফলাফল ঘোষণার দিন থেকে ২ বছর বৈধ।
এখন থেকেই প্রস্তুতি
জানুয়ারিতে ঘোষণা এলে আবেদনের সময় খুব কম থাকে, আর পরীক্ষা হয় তার প্রায় তিন মাস পরে। তাই আগে থেকেই নিজের স্তর জেনে নিন। TOPIKly-তে আছে 67,000টি অনুশীলন প্রশ্ন — TOPIK I অনুশীলন আর TOPIK II অনুশীলন দিয়ে শুরু করুন। প্রতিটি পরীক্ষার পর আনুমানিক স্তর দেখানো হয়।
সূত্র: দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাস, ঢাকা — overseas.mofa.go.kr/bd-en বিজ্ঞপ্তি: ১০৫তম TOPIK (৪ জানুয়ারি ২০২৬), ১০২তম TOPIK (৩ জুন ২০২৫), ৯৯তম TOPIK (১২ জানুয়ারি ২০২৫), ৮৭তম TOPIK (১১ জানুয়ারি ২০২৩) · দূতাবাসের «TOPIK BANGLADESH» পেজ (১০৮তম পরীক্ষার নোটিশ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ দেখা) · কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়-NIIED «২০২৭ TOPIK পরিকল্পনা» (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) · topik.go.kr।