KIIP (Korea Immigration and Integration Program, কোরিয়ান ভাষায় 사회통합프로그램) হলো কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোর্স। ক্লাস বিনামূল্যে, তবে চলে শুধু কোরিয়ার ভেতরে — বাংলাদেশে বসে KIIP করা যায় না। কোরিয়ায় বৈধভাবে থাকা যে কেউ, যেমন E-9 কর্মী, যোগ দিতে পারেন। বাংলাদেশিদের জন্য এর মূল লাভ: E-9 থেকে E-7-4-এ যেতে KIIP ২য় ধাপ (বা TOPIK স্তর ২), F-2-R ভিসায় ৩য় ধাপ (বা TOPIK স্তর ৩), আর স্থায়ী বসবাসে (F-5) ৫ম ধাপ সম্পন্ন করা বা স্থায়ী বসবাসের মূল্যায়নে পাস করা — এতে মৌলিক জ্ঞানের শর্ত পূরণ হয়।
কারা যোগ দিতে পারেন
কোরিয়ায় বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি — কর্মী (E-9, E-7-4), বিবাহ অভিবাসী, শিক্ষার্থী ইত্যাদি — আর যাঁরা কোরিয়ার নাগরিকত্ব নিতে চান। ২০২৫ সালে ৯০,০০০-এর বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
কারখানায় কাজ করা অনেক E-9 কর্মী ভাবেন, সময় হবে না। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস হয় — নিজের এলাকার কাছের প্রতিষ্ঠান খুঁজে দেখুন।
ধাপ ও ঘণ্টা
| ধাপ | কোর্স | ঘণ্টা |
|---|---|---|
| ০ | ভিত্তি (হাঙ্গুল) | ১৫ |
| ১ | প্রাথমিক ১ | ১০০ |
| ২ | প্রাথমিক ২ | ১০০ |
| ৩ | মধ্যম ১ | ১০০ |
| ৪ | মধ্যম ২ | ১০০ |
| ৫ | কোরিয়ান সমাজ বোঝা | মৌলিক ৭০ + উচ্চতর ৩০ |
৫ম ধাপ স্থায়ী বসবাসের জন্য ৭০ ঘণ্টা, নাগরিকত্বের জন্য ১০০ ঘণ্টা (মৌলিক + উচ্চতর)। ০ থেকে শেষ পর্যন্ত মোট ৫১৫ ঘণ্টা — তবে বেশিরভাগ মানুষ প্রাথমিক মূল্যায়নের মাধ্যমে কয়েকটি ধাপ বাদ দিয়ে শুরু করেন।
ধাপ ১: প্রাথমিক মূল্যায়ন (사전평가)
এই মূল্যায়ন ঠিক করে আপনি কোন ধাপ থেকে শুরু করবেন। এতে আছে লিখিত অংশ (৫০টি প্রশ্ন, ৬০ মিনিট, ৭৫ নম্বর) আর মৌখিক অংশ (৫টি প্রশ্ন, ১০ মিনিট, ২৫ নম্বর)।
| নম্বর | শুরুর ধাপ |
|---|---|
| ০–২ | ০ |
| ৩–২০ | ১ |
| ২১–৪০ | ২ |
| ৪১–৬০ | ৩ |
| ৬১–৮০ | ৪ |
| ৮১–১০০ | ৫ |
ফলাফল ২ বছর বৈধ। ফি ৩৮,০০০ ওন — প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত সব মূল্যায়নে একই। কাগজে ও কম্পিউটারে (CBT) দুই ধরনের পরীক্ষাই আছে; CBT নিয়মিত হয় সিউল, গোয়াংমিয়ং ও দেজনে।
E-9 কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রাথমিক মূল্যায়নে ৪১ বা তার বেশি (অর্থাৎ ৩য় ধাপে শুরু) পেলেও E-7-4-এর কোরিয়ান ভাষার শর্ত পূরণ হয় — নিচে দেখুন।
কীভাবে আবেদন করবেন
- socinet.go.kr-এ (সামাজিক সংহতি তথ্য নেটওয়ার্ক) সদস্য হোন। বিদেশি নিবন্ধন কার্ডের (ARC) নম্বর লাগবে।
- «단계배정» (ধাপ নির্ধারণ) থেকে প্রাথমিক মূল্যায়ন বেছে নিন।
- মূল্যায়ন সাইট kiiptest.org-এ নিবন্ধন করে ফি দিন।
- ফল পাওয়ার পর কাছের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বেছে নিন — দিনে, সন্ধ্যায় বা সাপ্তাহিক ছুটিতে। ক্লাস বিনামূল্যে, বই কিনতে হয়।
- প্রতিটি ধাপ শেষ করে সেই ধাপের মূল্যায়ন দিন।
সাইটগুলো কোরিয়ান ভাষায়, তাই প্রথমবার কোনো কোরিয়ান সহকর্মী বা প্রবাসী বাংলাদেশি বন্ধুর সাহায্য নিলে সহজ হয়।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন (종합평가)
শেষে দুটি চূড়ান্ত মূল্যায়ন আছে — স্থায়ী বসবাসের জন্য একটি আর নাগরিকত্বের জন্য একটি। দুটোতেই ৩৬টি বহুনির্বাচনী ও ৪টি লিখিত প্রশ্ন (৬০ মিনিট) এবং ৫টি মৌখিক প্রশ্ন (১০ মিনিট)। ১০০-র মধ্যে ৬০ পেলে পাস।
কোন ভিসায় কী কাজে লাগে
E-9 থেকে E-7-4 (দক্ষ কর্মী)
E-9 কর্মীদের অনেকের লক্ষ্য E-7-4 — এতে কোরিয়ায় দীর্ঘ সময় থাকার পথ খোলে, আর পরে F-2 ও F-5-এর দিকে এগোনো যায়। এর জন্য কোরিয়ান ভাষার ন্যূনতম শর্ত: TOPIK স্তর ২, বা KIIP ২য় ধাপ, বা প্রাথমিক মূল্যায়নে ৪১+ নম্বর। ধাপ যত উঁচু, কোরিয়ান ভাষার পয়েন্ট তত বেশি।
⚠️ একটি সাময়িক ছাড় শেষ হচ্ছে: আইন মন্ত্রণালয়ের ১ জুন ২০২৬ তারিখের ঘোষণা অনুযায়ী, কোরিয়ান ভাষা ছাড়া অন্য পয়েন্টে মোট ১৫০ বা তার বেশি থাকলে প্রথম মেয়াদ বাড়ানোর (২ বছর) আগে কোরিয়ান ভাষা পূরণ করার শর্তে ছাড় দেওয়া হচ্ছিল — এই ছাড় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। ২০২৭ থেকে এটি থাকবে কি না, এখনো ঘোষণা হয়নি। তাই KIIP বা TOPIK এখনই শুরু করা ভালো।
আইন মন্ত্রণালয় ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে E-7-4 সংস্কারের পরিকল্পনা জানিয়েছে — মেয়াদ বাড়ানোর কাগজপত্র কমানো, একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করলে বেশি পয়েন্ট, আর পরে F-2-তে যেতে প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় কমানো। কবে থেকে চালু হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।
F-2-R (আঞ্চলিক বিশেষ ভিসা)
কোরিয়ার কিছু অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করার শর্তে দেওয়া F-2-R ভিসার জন্য কোরিয়ান ভাষার শর্ত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের নির্দেশিকা সংশোধনে কমানো হয়েছে: এখন KIIP ৩য় ধাপ (বা প্রাথমিক মূল্যায়নে ৪র্থ ধাপ) অথবা TOPIK স্তর ৩। আগে ছিল ৪র্থ ধাপ বা স্তর ৪।
F-5 (স্থায়ী বসবাস)
KIIP ৫ম ধাপ সম্পন্ন করা বা স্থায়ী বসবাসের চূড়ান্ত মূল্যায়নে পাস করলে স্থায়ী বসবাসের মৌলিক জ্ঞানের শর্ত পূরণ হয়। F-5-এর আয়, বসবাসের সময় ইত্যাদি অন্য শর্ত আলাদা — HiKorea-তে দেখে নিন।
নাগরিকত্ব
মার্চ ২০১৮ থেকে নাগরিকত্বের লিখিত পরীক্ষা হলো KIIP-এর নাগরিকত্ব মূল্যায়ন। KIIP সম্পন্ন করে চূড়ান্ত মূল্যায়নে ৬০+ পেলে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার মওকুফ হয়।
⚠️ শুধু পরীক্ষায় পাস করা আর কোর্স সম্পন্ন করা এক নয়। ক্লাস না করে শুধু মূল্যায়নে পাস করলে সম্পন্ন করার সুবিধা (যেমন সাক্ষাৎকার মওকুফ) পাওয়া যায় না।
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
বাংলাদেশে থেকে কি KIIP করা যায়?
না। KIIP শুধু কোরিয়ায় বৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য, আর ক্লাস ও মূল্যায়ন হয় কোরিয়ার ভেতরে। বাংলাদেশে থাকলে TOPIK বা EPS-TOPIK দেওয়া যায়।
ক্লাস কি সত্যিই বিনামূল্যে?
ক্লাসের জন্য টাকা লাগে না, তবে পাঠ্যবই কিনতে হয় আর প্রতিটি মূল্যায়নে ৩৮,০০০ ওন ফি দিতে হয়।
প্রাথমিক মূল্যায়নে কম নম্বর পেলে কী হবে?
কোনো ক্ষতি নেই — শুধু নিচের ধাপ থেকে শুরু করবেন। ফল ২ বছর বৈধ থাকে।
ক্লাস না করে শুধু মূল্যায়ন দিয়ে কি ধাপ পার হওয়া যায়?
কিছু ক্ষেত্রে মূল্যায়নের ফলই ভিসার শর্ত পূরণ করে (যেমন E-7-4-এ প্রাথমিক মূল্যায়নে ৪১+)। কিন্তু নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার মওকুফের মতো সুবিধা পেতে কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। নিজের ভিসার শর্ত HiKorea বা ১৩৪৫ (বিদেশিদের হেল্পলাইন)-এ জেনে নিন।
KIIP নাকি TOPIK?
KIIP কোরিয়ার ভেতরের জীবন আর ভিসার জন্য। TOPIK হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তারা যে সার্টিফিকেট চায়, আর এটি বাংলাদেশেও দেওয়া যায় — দেখুন বাংলাদেশে TOPIK ২০২৭। E-7-4 আর F-2-R-এ দুটোই চলে, তাই যেটা আপনার সময়সূচির সঙ্গে মেলে সেটা বেছে নিন। অনেকে দুটোই করেন। TOPIK-এর স্তর বুঝতে পড়ুন TOPIK স্তর ও নম্বর তালিকা। আর এখনো বাংলাদেশে থাকলে কোরিয়ায় কাজের প্রথম ধাপ হলো EPS-TOPIK।
প্রাথমিক মূল্যায়নের প্রস্তুতি
প্রাথমিক মূল্যায়নের আগে কোরিয়ান যত ভালো হবে, তত বেশি ধাপ বাদ যাবে — আর তত তাড়াতাড়ি E-7-4 বা F-2-R-এর শর্ত পূরণ হবে। TOPIKly-তে KIIP পাঠ্যবইয়ের পাঠ অনুযায়ী অনুশীলন প্রশ্ন আছে, মোট 67,000টি অনুশীলন প্রশ্নের মধ্যে। কাজের ফাঁকে ফোনে প্রতিদিন অল্প অল্প করে শুরু করুন।
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয় — KIIP · KIIP মূল্যায়ন (kiiptest.org) · সামাজিক সংহতি তথ্য নেটওয়ার্ক (socinet.go.kr) · আইন মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা (E-7-4: ১ জুন ২০২৬ ও ২২ অক্টোবর ২০২৬) · F-2-R: ২৯ জুলাই ২০২৬ নির্দেশিকা সংশোধন (আঞ্চলিক সরকারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত)।